বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদ
ভূমিকাঃ
জাতির স্বরুপ প্রতিবিম্বিত হয় তার সাহিত্যে, তার ইতিহাস। কোন জাতির সাহিত্য ও ইতিহাস পাঠ করলে সে জাতির অনন্য দৃষ্টিভংগী, কৃষ্টি ও জীবনবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। এক কথায়, জাতীয় চরিত্রের চেহারা ফুটে ওঠে সাহিত্যে ও ইতিহাসে।
যে জাতির ইতিহাস বোধ নেই, তার উন্নতি ও অগ্রগতিরও কোন সম্ভাবনা নেই। পক্ষান্তরে যে জাতি যতোটা ইতিহাস সচেতন সে ততো বেশী জীবন্ত ও গতিশীল। কেননা ইতিহাসের ও ঐতিহ্যের আলোকে যে জাতি জীবন-পথে অগ্রসর হোতে পারে না এবং ভবিষ্যৎ পথ চলার নির্দেশ পায় না, জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে তার আয়ুষ্কাল হয় নিতান্ত ক্ষণস্থায়ী।
বর্তমানে জনগণ বিশেষ করে সুধী ও ছাত্র সমাজের মধ্যে ইতিহাস চর্চা একেবারেই বিরল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতিহাস বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকাংশই পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত নির্দিষ্ট ইতিহাসই শুধু পরীক্ষায় উত্তীর্ন হওয়ার জন্য অধ্যায়ন করে থাকেন। ফলে বৃহত্তর পরিসরে ইতিহাস চর্চা পরিলক্ষিত হয়না।
জাতি, সভ্যতা, দেশ, মহাদেশের ইতিহাস চর্চা মানুষের জ্ঞানের পরিধিকের বিস্তৃত করে। মুষ্টিমেয় ইতিহাস বেত্তা বলে পরিচিত মহল বিশেষের দেশের অতীত ইতিহাস বিকৃতি করার অপপ্রয়াসও লক্ষ্য করা যায়। অতীতের ত্রুটি বিচ্যুতিকে পাদপ্রদীবের আলোকে উদ্ভাসিত করে সম্মুখে সমাজ সভ্যতাকে এগিয়ে নেওয়ার বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে - ইতিহাস চর্চা।
এতদ উদ্দেশ্যে আমরা ইতিহাস চর্চার জন্য বগুড়ায় একটি সংগঠন তৈরীর তাগিদ অনুভব করছি। উল্লেখযোগ্য যে, এই সংগঠন একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী, দেশ প্রেমিক, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান।
২০ ডিসেম্বর ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করা এ গবেষণলদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নাম করন করা হয় "বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদ"।
